‘ম্যাজিক চার্জার’, এক প্রজন্মের প্রযুক্তি নস্টালজিয়ার এক নাম

একটা সময় ছিল, যখন মোবাইল ফোন থেকে ব্যাটারি আলাদা করে খুলে ফেলা যেত। ব্যাটারির চার্জ ফুরালে ফোন ফেলে না রেখে ব্যাটারিটি খুলে বসিয়ে দেওয়া হতো চার্জারে। সেই চার্জারের নাম ছিল “অটো চার্জার”, কারও কাছে আবার “ম্যাজিক চার্জার”। স্মার্টফোনের এই যুগে সেটি এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক স্মৃতি।

  এই চার্জারে ব্যাটারি বসানোর কাজটিও ছিল ছোটখাটো এক বিজ্ঞান। ব্যাটারির দুই প্রান্ত চার্জারের পিনের সঙ্গে ঠিকঠাক মেলাতে হতো। সংযোগ ঠিক হলে লাল বা সবুজ এলইডি জ্বলে উঠত। সেই আলো দেখে অনেকের মনে হতো, প্রযুক্তি বুঝি সত্যিই জাদু জানে।

এ ধরনের চার্জারে সাধারণত রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো। পুরোনো দিনে নিকেল-ক্যাডমিয়াম (Ni-Cd) ও নিকেল-মেটাল হাইড্রাইড (Ni-MH) ব্যাটারি বেশি চলত। পরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিও এসেছে। ব্যাটারির ভেতরে শক্তি জমা থাকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে। চার্জ দেওয়ার সময় বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপ নিয়ে জমা হয়, আর ব্যবহারের সময় সেই রাসায়নিক শক্তিই আবার বিদ্যুৎ হয়ে ফোন চালায়।

আজকের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিংয়ের যুগে চার্জ দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমান ও নিয়ন্ত্রিত। ইউএসবি-সি কেবল লাগালেই ফোন চার্জ হতে শুরু করে। আগের মতো পিন মেলানোর ঝক্কি নেই, ব্যাটারি খোলারও প্রয়োজন পড়ে না।

তবে একসময় ব্যাটারি চার্জ দেওয়া ছিল ধৈর্যের ব্যাপার। চার্জারটা ঠিক আছে তো? পিন মিলেছে তো? এলইডি জ্বলছে তো? এসব ছোট ছোট দুশ্চিন্তাই ছিল এক প্রজন্মের প্রযুক্তিগত শৈশবের অংশ।

এখন কয়েক মিনিটেই ফোনে চার্জ হয়ে যায়। তখন পুরোনো এই যন্ত্রগুলো মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞান একদিনে এগোয়নি। অসংখ্য ছোট ছোট আবিষ্কার আর অভিজ্ঞতার পথ পেরিয়েই এখানে পৌঁছেছে। তাই এই পুরোনো অটো চার্জার শুধু একটি যন্ত্র নয়, প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক টুকরো নস্টালজিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *