বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রে দায়িত্বশীলতা জরুরি: ডিএসসিসি প্রশাসক

নিউজ ফাস্ট ডেস্ক : গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।  অন্যদিকে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে শনিবার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) আয়োজিত ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’-এর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় উদ্বোধনী পর্বে ফরিদা খানম এবং বিকেল ৪টায় সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আব্দুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদা খানম বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসংগতি তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংবাদ প্রকাশের আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাই করতে হবে। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে আপস করা যাবে না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আব্দুস সালাম বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সংবাদ প্রকাশের আগে এর সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। একটি সংবাদ বা ছবি মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নির্ভুলতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এমআরইউ সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম বলেন, প্রযুক্তির বিকাশে সাংবাদিকতার ধরন বদলে গেছে। এখন একটি মোবাইল ফোন দিয়েই সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও সম্পাদনা ও প্রকাশের কাজ করা সম্ভব। একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিককে অনেক সময় একাই এসব দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সংবাদকর্মীদের নিয়ে গঠিত এমআরইউ মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করছে। সাংবাদিকদের একত্রিত হওয়া, প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
‘জ্ঞান, দক্ষতা ও সুস্থতায় সাংবাদিকদের একদিন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ডিজিটাল সাংবাদিকতা, মোবাইল জার্নালিজম, মাল্টিমিডিয়া স্টোরিটেলিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ডেস্ক রিপোর্টিং, নিউজ প্রেজেন্টেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাংবাদিকতা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাইবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, এমআরইউ বুক কর্নার ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
আয়োজনের মেডিক্যাল পার্টনার ছিল ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। কুইজ ও পুরস্কার পার্টনার ছিল লাবণ্য মিডিয়া হাউজ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমআরইউ উপদেষ্টা ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, এমআরইউ সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন, সংগঠনের উপদেষ্টা সফিউর রহমান শফিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
উল্লেখ্য, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *