নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মকবুল হোসেন জমি দখল, বসতবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দায়ের করা এই অভিযোগে তিনি বিবাদী হিসেবে তাঁর চাচাতো ভাই মোঃ মামুন হোসেনের নাম উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য পঞ্চায়েতের শালিস বৈঠকের মাধ্যমে মোঃ মকবুল হোসেন ও তাঁর পরিবার বিরোধীয় ভূমির দখল লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে জমিটি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করা হলে স্থানীয় তহশিলদার তা পরিদর্শনে যান। তবে অভিযোগকারীর দাবি, কোনো প্রকার লিখিত নোটিশ প্রদান না করেই তাঁর বসতবাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়, যার ফলে তাঁর নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মালামালের ক্ষতিসাধন হয়। এছাড়া উক্ত জমিতে মাটি কাটার বাবদ তাঁর প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিবাদীপক্ষ উক্ত জমিতে বাথরুম ও টিউবওয়েল স্থাপনসহ পাকা বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে বিবাদীপক্ষ দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে বলে মকবুল হোসেন দাবি করেন। এ কারণে তিনি প্রাণভয়ে বাড়িতে উঠতে পারছেন না এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের ডাকও বিবাদীপক্ষ অমান্য করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, “আমরা নাবালক থাকা অবস্থায় সাবেক চেয়ারম্যান ও পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে আমাদের জমির দখল দেওয়া হয়েছিল। আমি নিজের খরচে জমিতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাটি কেটেছিলাম। কিন্তু কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই আমার দোকানপাট ও বসতঘর ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়, যাতে আমার নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ অনেক ক্ষতি হয়। এখন আমার জায়গায় জোরপূর্বক পাকা বিল্ডিং বানানো হচ্ছে। বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে আমি প্রাণভয়ে বাড়িতে পর্যন্ত যেতে পারছি না। তারা পঞ্চায়েতের কথাও মানছে না। আমি প্রশাসনের কাছে সরেজমিনে তদন্ত করে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”