জগন্নাথপুরে দাওয়াত নিয়ে বিরোধে ব্যবসায়ী হত্যা: কুলাউড়া থেকে প্রধান আসামি গ্রেফতার

রেজুওয়ান কোরেশী :  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোনের বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে আপন চাচাতো ভাইদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন (৪৮) নিহতের ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মাছুম মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মাছুম মিয়া জগন্নাথপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লুদরপুর গ্রামের মৃত মাসুক মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) লুদরপুর লম্বা আটি গ্রামের বাসিন্দা মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিনের বোন মরিয়ম বেগমের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের আগে নাজিম নিজে সরাসরি না গিয়ে বোনদের মাধ্যমে প্রতিবেশী মৃত মাসুক মিয়ার ছেলেদের দাওয়াত পাঠান। সরাসরি দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিয়েতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এরই জেরে পরদিন সকালে অভিযুক্তরা নাজিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের বসতঘরে আটকে রেখে তালা ঝুলিয়ে দেয়। নাজিম সে সময় তার মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে মাছুম, মামুন, মঞ্জু ও মুবিনসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজিমের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় মামুন সুলফি দিয়ে আঘাত করলে নাজিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তার বুকের ওপর উঠে অমানবিক নির্যাতন ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী সুমি বেগম বাদি হয়ে ২০ অক্টোবর জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০, জিআর নং-১৭৯)। মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেফতার অভিযানে নামে পুলিশ। পরবর্তীতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ কুলাউড়ায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান এজাহারনামীয় আসামি মাছুম মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক নুর হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই হত্যা মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *